Read All Bangla Newspaper Online & Bangla News

Media Link Submission Media Directory, Journalism Jobs, Social Media, CNN News, BBC Weather, BBC World News, CBS, Health Insurance, Insurance in USA, Life Insurance, USA News, Daily News, Fox, Bangladesh News, India News, Pakistan News, Latest News

প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেবে আউড়ি

ন্যায্য বাণিজ্যের অঙ্গীকার নিয়ে ঢাকার গুলশানে যাত্রাশুরু করলো বিক্রয় কেন্দ্র ‘আউড়ি’। যেখানে প্রান্তিক নারীকৃষক ও নারী উদ্যোক্তাগণ তাদের উৎপাদিত পণ্য জাতীয় পর্যায়ে সরাসরি বিক্রয়ের সুযোগ পাবেন। আউড়িতে থাকছে নিরাপদ খাদ্য ও গ্রামীণ পণ্য কেনার নিশ্চয়তা।আউড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বললেন, কৃষিতে, উৎপাদনে এবং ব্যবসায় নারীর অবদান থাকলেও তার মূল্যায়ন নেই। নেই বাজার ব্যবস্থাপনায় তাদের উপস্থিতি। সে কারণে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা একদিকে ব্যবসা প্রসার করতে পারেন না, অন্যদিকে তারক্ষমতায়নের পথ রুদ্ধ হয়। এজন্যই নারী বান্ধব বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার গুলশানে একটি অনুষ্ঠানেরমাধ্যমে আউড়ি’র পথচলা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র, অভিনয় শিল্পী, পরিচালক, ব্যবসায়ী, ফ্যাশন ডিজাইনার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র নারীউদ্যোক্তাগণসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের ধারণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশে কৃষিজউৎপাদনে নারীরা সরাসরিভাবে যুক্ত থেকে কাজ করে। বিশেষ করে উপকরণ সংগ্রহ, জমি তৈরী, সার দেওয়া, নিড়ানি এবং কীটনাশকের প্রয়োগ হতে শুরু করে ফসলকাটা, বাছাই, মাড়াই ও পরবর্তী চাষের জন্য বীজ রাখাপর্যন্ত। কিন্তু পণ্য বিক্রির সময় তারা আর দৃশ্যপটে থাকেনা। আবার বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায়া প্রচলিত নিয়ম-কানুন, আচরন আর চর্চা তাদেরকে বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বাধা দেয়, তাদের আয়ের উপরনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ব্যাহত করে। নারীরা বাজারে প্রবেশেরক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, যেমনক্রেতা ও হোলসেলারদের অসম আচরণ, নারীদের ব্যবসারজন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকা, যৌন হয়রানির শিকার এবং অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব ইত্যাদি। এই সমস্যাসমাধানের জন্যই আউড়ি’র যাত্রা শুরু।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ের নারী কৃষকেরা পণ্য উৎপাদন করলেও বিক্রির সুযোগ পাননা। আউড়িতে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন। বাজার ব্যবস্থাপনাও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।” ভেজালহীন ও নিরাপদ পণ্যের এই বিক্রয় কেন্দ্রের প্রসংসাকরে সিটি মেয়র এ ধরনের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সিটিকর্পোরেশন কজ করবে বলে জানান।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রিডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নারীউদ্যোক্তা আছে যারা তাদের পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয়ও জাতীয় পর্যায়ের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এই জাতীয় বিক্রয় কেন্দ্র নারীউৎপাদকদের বাজারের মূলধারার ব্যবসার সাথে তাদেরপণ্যগুলির সংযোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বৃদ্ধিতেসহায়তা করবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদেরক্ষমতায়নের পথ প্রসারিত হবে।”পরিচালক এবং অভিনেতা আফজাল হোসেন বলেন, “নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে চাই নারীর ক্ষমতায়ন, যেননারীরা নিজেদের রক্ষা করতে পারে, সাবলম্বী করতে পারে।আউড়ি নারীদের পথ দেখাবে।”বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এরসিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে কৃষি ও অকৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদনের সাথেনারীরা সরাসরিভাবে যুক্ত থেকে কাজ করে। কিন্তু জমি, উৎপাদিত পণ্য এবং উপার্জিত অর্থের উপর নারীরঅধিকার থাকে না। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে এসকল অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমার বিশ্বাস আউরির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নারী কৃষকরা সামনে এগিয়েযাবেন।”অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, এই জাতীয় বিক্রয় কেন্দ্রনারী উৎপাদকদের বাজারের মূলধারার ব্যবসার সাথে তাদের পণ্যগুলির সংযোগের মাধ্যমে নারী উদ্দ্যোক্তাদের ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। আউড়ি থেকে নারীরা সরাসরি তাদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবে এবং এটি কমিউনিটির সাথে জাতীয় বাজারের সরাসরি সংযোগহিসেবে কাজ করবে।শুভেচ্ছা বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রীর সভাপতি সাজেদা বেগম বলেন, “এই প্রথম সংগঠনের নারীরা তাদেরউৎপাদিত পণ্য সরাসরি ঢাকায় এসে বিক্রি করতেপারছেন। এটা আমাদের জন্য একটা বড় অর্জন। এতেনারী কৃষক ও উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন।” কৃষক এবং উদ্যোক্তাদের জাতীয় পর্যায়ের বাজারে যুক্তকরার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দুতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি- ফুডসিকিউরিটি, আদেমা ডার্ক বলেন, এই ধরনের উদ্যোগকেআরো প্রসারিত করা জরুরি নারী ক্ষমতায়নের জন্য।মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুর নূর তুষার বলেন, “মুনাফাভিত্তিক বাজারব্যবস্থায় কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পান না। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “আমরা চাই উৎপাদনকারীরা যেন তাদের পণ্যের মূল্য নিজেরাই পান এবং উপকৃত হন।” অভিনেত্রী আফসানা মিমি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়নের জন্য এই ধরনের প্রতিষ্ঠান বেশি বেশি দরকার। আমি নিজে এখানের পণ্য নিয়মিত কিনব। অন্য সবাইকেও আউরিতে-এসে পণ্য কিনতে অনুরোধ করব।”মূলত কৃষকদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রী (কেকেএম)’এই বিক্রয় কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে। যার সার্বিক সহযোগিতা করছে একশনএইড বাংলাদেশ। নারী উৎপাদনকারীরা একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের মাধ্যমে তাদের বিক্রয় কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করবেন।ঢাকার গুলশান-১ এর ৮ নম্বর রোডে অবস্থিত এই কেন্দ্রেক্রেতাদের জন্য রয়েছে ভেজাল ও বিষমুক্ত শাকসবজি, খাদ্যও কৃষি পণ্য। আছে হস্তশিল্প ও তাঁত শিল্পের পণ্য। কফিকর্নারে থাকছে গ্রামীণ খাবার। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে আউড়ি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.