Read All Bangla Newspaper Online & Bangla News

Media Link Submission Media Directory, Journalism Jobs, Social Media, CNN News, BBC Weather, BBC World News, CBS, Health Insurance, Insurance in USA, Life Insurance, USA News, Daily News, Fox, Bangladesh News, India News, Pakistan News, Latest News

বাংলাদেশে যৌন হয়রানি : প্রতিরোধ ও প্রতিকার

১৯৯০ এর দিকে সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিএনডব্লিউএলএ যৌন হয়রানী বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করে। ওই রিট পিটিশনের প্রেক্ষাপটে ২০০৯ সালে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন একটি তাৎপর্যপূর্ন নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় বলা হয়, এটা কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব- যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই ধরণের ঘটনা ঘটলে বিদ্যমান আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলা আছে হাইকোর্টের নির্দেশনাটিতে। নির্দেশনায় আরও বলা হয় যে, ‘‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যতদিন না একটি পৃথক ও পূর্নাঙ্গ আইন গ্রহণ করা হয় ততদিন পর্যন্ত গনপরিসরে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের সমস্ত কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নির্দেশনা কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে’’।

নির্দেশনা প্রণয়নের দীর্ঘ নয়বছর পরেও কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর কোন ব্যবস্থা বা কৌশল নিতে দেখা যায়নি। যার প্রভাব আমরা লক্ষ্য করছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে ২০১৫ সালে করা একশনএইড বাংলাদেশের একটি গবেষণা বলছে, এই শহরগুলোর ৮৪ শতাংশ নারী এবং কিশোরী যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্যের সম্মুখীন হন। আরও একটি গবেষণাপত্র (২০১৭) হতে জানা যায় যে, শহরের নারীদের ৫৪.৭ শতাংশ অনাকাঙ্খিত স্পর্শ সহ শারিরীক, মানসিক, অর্থনৈতিক, এবং সামাজিক সহিংসতার শিকার হন।

এরই প্রেক্ষিতে একশনএইড বাংলাদেশ ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ: সুপ্রিমকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনার প্রয়োগ ও কার্যকারিতা’ নামে একটি গবেষণা করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, হাইাকোর্টের নির্দেশনা প্রণয়নের দীর্ঘ নয়বছর পরেও কর্ম এবং শিক্ষাক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর যৌন হয়রানী প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনরূপ নির্দেশনা সম্পর্কে জানেন না। এমনকি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি রয়েছে, সেটা সম্পর্কেও সচেতন নন শিক্ষার্থীগণ। এককথায়, ছাত্রছাত্রীদের বেশিরভাগই যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নির্দেশনা অথবা এ সংক্রান্ত আইনসমূহ সম্পর্কে জানেন না।

গবেষণাটিতে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। যেখানকার ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত কোন কমিটির কথা জানেন না। ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থীরা সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে জানেন না।এবং ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থীরা এর কথা নামমাত্র শুনেছেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় দেশের তিনটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটির কর্তৃপক্ষ জানান যে তাদের একটি সক্রিয় কমিটি রয়েছে, যদিও তা ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল এবং অভিযোগের পরিমানও নগন্য । দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানান যে, তদের সক্রিয় কমিটি রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের তুলনায় হয়রানির বিষয়ক অভিযোগের পরিমান খুবই সামান্য। এছাড়া স্কুল ও কলেজের আরো ১০ শিক্ষার্থীর সঙ্গেও এই বিষয়ে বলেছেন গবেষকরা।

কর্মক্ষেত্র
গবেষণাটিতে দেখা যায় যে, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যারা কাজ করছেন তারা হাইকোর্টের এই নির্দেশনা সম্পর্কে খুব কমই জানেন। সচেতনার মাত্রাও নগন্য। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তারাও এই নিদের্শনা সম্পর্কে জানেন না ও ভাবেন না। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান, সংবাদ মধ্যমের ২০ জন ব্যক্তির উপরও গবেষণাটি করা হয়। এদের মধ্যে ৬৪.৫ শতাংশ সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে কিছুই জানেননা। ১৪ শতাংশ নির্দেশনাটি সম্পর্কে জানলেও তাদের এ বিষয়ে কোন পরিষ্কার ধারণা নেই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
– বর্তমান অবস্থাকে বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের জানাবেন।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নোটিশ বা অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা, ২০০৯ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ভাবে অবহিত করবেন ।শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকামন্ডলী এবং কর্মীদের মাঝে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত আইন, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা এবং সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা ২০০৯ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করবেন।
– শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দায়িত্ব হবে, বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে একটি তদারকি ও পর্যবেক্ষণ কৌশল গ্রহণ করা যার মাধ্যমে নির্দেশনা, ২০০৯ বাস্তবায়িত হবে।

কর্মক্ষেত্র
– প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে কর্র্মী এবং ব্যবস্থাপকদের জন্য সচেতনতা এবং প্রশিক্ষন কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা ২০০৯ অনুযায়ী প্রশিক্ষন নির্দেশিকা, ব্যবহারিক এবং প্রচারণার নথিপত্র তৈরি করতে হবে।
– সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তদারকি কৌশল গ্রহণ করতে হবে। তদারকি কৌশলসমূহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, সরকারি অধিদপ্তর এবং কর্তৃপক্ষের সুপরিকল্পিত এবং সমন্বিত উদ্যোগে গ্রহণ করতে হবে ।

– সচেতনতার অভাবেই মূলত ২০০৯ সালের সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই এ সম্পর্কে সর্বস্তরে বিশেষত কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।
– সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় সেজন্য সরকারি উদ্যোগে একটি তদারকি বা কমিটি থাকা উচিৎ। ওই কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ট্রেডই উনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকবেন। যাতে সব পক্ষের মতমত ও পর্যবেক্ষণ থাকে।
– গনপরিসরে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি পৃথক ও পূর্নাঙ্গ আইনও প্রণয়ন করতে হবে।

সবশেষে, এই সমস্ত উদ্যোগ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত ‘এডভোকেসি নেটওয়ার্ক’ তৈরি করতে হবে। যারা হাইকোর্টের দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় কাজ করবেন। একইসঙ্গে এই দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রগতিশীল আইন তৈরির জন্য কাজ করবেন। আর এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে যৌন হায়রানি ও নারীর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *