Read All Bangla Newspaper Online & Bangla News

Media Link Submission Media Directory, Journalism Jobs, Social Media, CNN News, BBC Weather, BBC World News, CBS, Health Insurance, Insurance in USA, Life Insurance, USA News, Daily News, Fox, Bangladesh News, India News, Pakistan News, Latest News

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাসহ খাদ্য অধিকার আইনের দাবিতে জমায়েত ও মানববন্ধন

বিগত কয়েক বছরে দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতি ঘটলেও সমাজে আয়-বৈষম্যের ব্যাপকতা বেড়ে চলেছে। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দরিদ্র মানুষের হার কমলেও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি রয়েই যাচ্ছে। এদের বেশিরভাগ দৈনিক ২ হাজার ১২২ কিলো ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। যে সমাজে দারিদ্র্য থাকে সেখানে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাও কার্যকর হয় না। বাংলাদেশে এখন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভূগছে। গত দশ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে অক্ষমতার পাশাপাশি অনিরাপদ খাদ্য এখন একটি বড় সমস্যা।

এ প্রেক্ষিতে অবিলম্বে সকল নাগরিকের জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা। ১০ এপ্রিল ২০১৮ ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ নেটওয়ার্কের উদ্যোগে ‘খাদ্য অধিকার আইন চাই, সবার জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা চাই’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত জমায়েত, মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব বলেন।

এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। আরো বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ জাতীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ জাতীয় কমিটির অন্যতম সম্পাদক যথাক্রমে হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড-এর দেশীয় পরিচালক আতাউর রহমান মিটন ও একলাব-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তরিকুল ইসলাম, স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মীর নেওয়াজ, বাস্তব-এর নির্বাহী পরিচালক রুহী দাস, বিকল্প উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক শামসুল আলম, ন্যাশনাল ইয়ুথ এসেম্বলির সদস্য ইব্রাহীম খলিল এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থাসমূহের নেতৃবৃন্দ।

জমায়েতে প্রচারপত্র উপস্থাপন করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কানিজ ফাতেমা। উল্লেখ্য, নেটওয়ার্কের ধারাবাহিক কাজের অংশ হিসেবে বিগত ২৮ মার্চ ২০১৮ থেকে ১০ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘খাদ্য অধিকার ক্যাম্পেইন’-এর অংশ হিসেবে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, জমায়েত, আলোচনা ও র‌্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রচারভিযানের সমাপনী দিনে ঢাকাসহ দেশের ৬০ জেলায় একইসাথ গণজমায়েত, সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

ক্যাম্পেইনের কেন্দ্রীয় এ কর্মসূচির প্রধান বক্তা মহসিন আলী তার বক্তব্যে বলেন, ২০১৫ সালের আগেই দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশের বেশি কমিয়ে ‘সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (গউএ) পূরণ করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও চূড়ান্তভাবে এই অবস্থান নিশ্চিত করতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তারপরও দেশে দরিদ্র মানুষের এক অংশের খাদ্য নিরাপত্তা, গুণগত শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, কর্ম-সংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাফল্য এখনও আমরা অর্জন করতে পারিনি। খাদ্য নিরাপত্তার সাথে পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয়টিও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

গত দশ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। যার মধ্যে নারী ও শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি আরও নাজুক। এ প্রেক্ষিতে সারা বিশ্বে ‘খাদ্য অধিকার’-এর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকৃত মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হওয়া, ২০২৪ সাল পর্যন্ত উন্নয়নের বর্তমান ধারা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও এসডিজির লক্ষ্য পূরণসহ সকল আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রের উদ্যোগে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। শাহীন আক্তার ডলি সকলকে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের দাবির সাথে একমত পোষণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে খাদ্যে যে হারে ভেজাল মেশানো হচ্ছে তাতে করে আগামীতে আমরা একটি রুগ্ন প্রজন্ম পেতে যাচ্ছি, যা আমাদের কর্মক্ষমতাকেও কমিয়ে দেবে। ফলে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। এ ব্যাপারে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তথা সরকারকে এখনই নজর দিতে হবে। আতাউর রহমান মিটন বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একটি সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। সেখানে কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হতে পারে না। আমরা যেসব কাঁচা এবং প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করি তার বেশিরভাগেই ক্ষতিকর কীটনাশক ও নানাবিধ রাসায়নিক মেশানো থাকে। এরফলে অনেক দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছি আমরা, আমাদের চিকিৎসা-ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। তাই সবার জন্য শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।

প্রচারপত্রে বলা হয়, আমাদের দেশে খাদ্যে ভেজাল এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ‘নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি’ এক অনিশ্চয়তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজধানীর হোটেল রোস্তোরাঁগুলোকে নিরাপদ খাদ্য জোন ঘোষণার লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ ভাল ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ উদ্যোগ রাজধানীর পাশাপাশি দেশের সকল শহরে বিস্তৃত করা প্রয়োজন। বর্তমানে খাদ্যের সাথে পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং খাদ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নীতি নির্ধারক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নাগরিক সমাজের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট যেসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়: ▪ প্রধান প্রধান দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাসহ দারিদ্র্য বিমোচনে বহুমুখী (শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি) কর্মসূচি গ্রহণ করা; ▪ উপরোক্ত কর্মসূচিসমূহের অধীনে নারী ও শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা; ▪ নীতিমালা অনুযায়ী সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করা; ▪ যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পুষ্টিকর খাদ্যসহ সকল ক্ষেত্রে যথাযথ পূর্ব প্রস্তুতি নিশ্চিত করা; ▪ বরাদ্দ অনুযায়ী উপকারভোগীদের খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদানসহ সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা; ▪ ‘নিরাপদ খাদ্য আইন’-এর বিধান অনুযায়ী অবিলম্বে ‘কেন্দ্রীয় খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি’ এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা; ▪ ‘সমন্বয় কমিটি’র উদ্যোগে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ও জনগণের করণীয়’ সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা; ▪ নিরাপদ খাদ্যের ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করা; ▪ খাদ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে অবিলম্বে রাষ্ট্র কর্তৃক ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা; ▪ এসডিজি’র ১নং লক্ষ্য ‘সব ধরনের দারিদ্রের অবসান’ এবং ২নং লক্ষ্য ‘ক্ষুধামুক্তি’ অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যথাযথ উদ্যোগ নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.