Read All Bangla Newspaper Online & Bangla News

Media Link Submission Media Directory, Journalism Jobs, Social Media, CNN News, BBC Weather, BBC World News, CBS, Health Insurance, Insurance in USA, Life Insurance, USA News, Daily News, Fox, Bangladesh News, India News, Pakistan News, Latest News

‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ হাইকোর্টের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না’

৮৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের দিক নির্দেশনা জানেন না। কর্মক্ষেত্রে এই হার ৬৪.৫ শতাংশ। মূলত নির্দেশনার বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা ও না মানার ঝোঁকের কারণে এই অবস্থা। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি হলে তার প্রতিকার পান না ভুক্তভোগিরা। যৌন হয়রানি বন্ধ বা প্রতিকারে করনীয় কি, তা নিয়ে সচেতনতাও কম।

একশনএইড বাংলাদেশের করা ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ: সুপ্রিমকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনার প্রয়োগ ও কার্যকারিতা’ নামের একটি গবেষণায় এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। সোমবার ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে গবেষণাটি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

সুনির্দিস্ট প্রশ্নের আলোকে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। যেখানকার ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত কোন কমিটির কথা জানেন না। ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থীরা সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে জানেন না। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাইকোর্টের নির্দেশিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না।

গবেষণাটিতে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছেন তারা হাইকোর্টের এই নির্দেশনা সম্পর্কে খুব কমই জানেন। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান, সংবাদ মাধ্যমের ২০ জন ব্যক্তির উপরও গবেষণাটি করা হয়। এদের মধ্যে ৬৪.৫ শতাংশ সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ১৪ শতাংশ নির্দেশনাটি সম্পর্কে জানলেও তাদের এ বিষয়ে কোন পরিস্কার ধারণা নেই।

কর্মক্ষেত্রে বা উন্মুক্ত স্থানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্টের নির্দেশনাকে একটি যুগান্তকারী নির্দেশ হিসেবে ধরা হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব- যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সচেতনতা বৃদ্ধি, কমিটি গঠন ও আইনের প্রয়োগের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অবহিতকরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটলে বিদ্যমান আইনে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলা আছে হাইকোর্টের নির্দেশনাটিতে। যেটি কর্মক্ষেত্রের যেকোন প্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রযোজ্য। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যতদিন না একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন গ্রহণ করা হয় ততদিন পর্যন্ত গণপরিসরে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের সমস্ত কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

এমনসব বিষয় নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের অধিকাংশ মানুষ হাইকোর্টের নিদের্শনা মানেন না এবং জানেন না। সচেতনতার মাত্রাও নগণ্য। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই নিদের্শনা সম্পর্কে জানেন না ও ভাবেন না।

প্রতিবেদন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা বলেন, “আমাদের দেশের বাস্তবতা হলো একজন হয়রানি বা নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়না। কর্মক্ষেত্রে একই অবস্থা। এই পরিস্থিতি সমাধানে হাইকোর্টেও ২০০৯ সালের নির্দেশণা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। হয়রানি বা নির্যাতনকারীকে আইনের আওতায় এনে বড় অংকের জরিমানা করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

নারীনেত্রী খুশি কবির বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনাটা মানা খুবই দরকার। এটি মানা হলে আমাদের দেশে নির্যাতনের মাত্রা কমে যেত। তবে বাস্তবতা হলো স্বীকৃত বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নির্যাতন হলে তার বিচার হয় না। ছাত্রীদের নির্যাতন সহ্য করতে হয়। আবার অভিযোগ আসলে তার বিচার হয়না। অনেকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চান। তাই হাইকোর্টের নির্দেশনা সবাইকে মানতেই হবে।”

গবেষণা নিয়ে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানে সেটি আইন। তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। ফলে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিকার বা প্রতিরোধ হচ্ছে না। যেটির ভয়াবহতা আমরা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি। নারীরা ঘরে বাইরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে হাইকোর্টের নির্দেশনার বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়াতে হবে। যারা হাইকোর্টের নির্দেশনা মানেন না, তাদের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা তৈরি করতে হবে।”

এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশনা পুরোপুরি মানা গেলে কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্যাতন নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। মানুষ কিংবা পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের ব্যাপকতা হয়ত কম। তবে আমরা কাজ করছি। নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

গবেষণায় বলা হয়, সচেতনতার অভাবেই মূলত ২০০৯ সালের সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই এ সম্পর্কে সর্বস্তরে বিশেষত, কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় সেজন্য সরকারি উদ্যোগে একটি তদারকি কমিটি থাকা উচিৎ। ওই কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ট্রেড ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গণপরিসরে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা।

২০০৯ সালের হাইকোটের্র নির্দেশনা যাতে মানা হয় সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের জন্য কিছু সুপারিশ করা হয় গবেষণাটিতে। সুপারিশে বলা হয়, বর্তমান অবস্থাকে বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নোটিশ বা অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা, ২০০৯ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করবেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকামন্ডলী এবং কর্মীদের মাঝে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত আইন, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা এবং সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা ২০০৯ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দায়িত্ব হবে, বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে একটি তদারকি ও পর্যবেক্ষণ কৌশল গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা।

সুপারিশে আরও বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি কর্র্মী এবং ব্যবস্থাপকদের জন্য সচেতনতা এবং প্রশিক্ষন কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা ২০০৯ অনুযায়ী প্রশিক্ষন নির্দেশিকা, ব্যবহারিক এবং প্রচারণার নথিপত্র তৈরি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তদারকি কৌশল গ্রহণ করতে হবে। তদারকি কৌশলসমূহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি অধিদপ্তর এবং কর্তৃপক্ষের সুপরিকল্পিত এবং সমন্বিত উদ্যোগে গ্রহণ করতে হবে ।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একই অনুষ্ঠানে নাসরীন স্মৃতিপদক ২০১৮ প্রদান করে একশনএইড বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রয়াত নারীনেত্রী নাসরীন পারভীন হকের উদ্যম, আদর্শ ও বিশ্বাসকে ছড়িয়ে দিতে একশনএইড বাংলাদেশ ২০০৭ সাল থেকে ‘নাসরীন স্মৃতি পদক’ প্রদান করে আসছে। চারটি বিভাগে এবার চারজন ‘নাসরীন স্মৃতি পদক ২০১৮’ পেয়েছেন ।

যৌন হয়রানী ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপন বিভাগে এবার পদক পেয়েছেন খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার তালতলা গ্রামের ভারতী বিশ্বাস। ভিন্ন রূপে পুরুষ (গৃহস্থালী সেবামূলক কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণ) বিভাগে পদক পেয়েছেন জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবের গ্রামের বালক চন্দ্র বিশ্বাস। গৃহস্থালী সেবামূলক কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং প্রথাগত জেন্ডার ভূমিকা পরিবর্তনে অবদানের-এর জন্য তাকে এবার এই সম্মাননা দেয়া হয়। শিশুবিবাহ প্রতিরোধে সোচ্চার বিভাগে পদক পেয়েছেন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি গ্রামের টিপু সুলতান ।

এছাড়া জুরীবোর্ড সর্বসম্মতীক্রমে নারী ক্ষমতায়নে অবদানরে স্বীকৃতি স্বরূপ বিশেষ বিভাগে পদক পেয়েছেন নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার চকসুবল গ্রামের তাসমিনা খাতুন। ঘোড়দৌড়ই যার নেশা । পুরষ্কার হিসেবে প্রত্যেকেই পদক, সম্মাননা পত্র, আর্থিক সম্মাননা পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *