Read All Bangla Newspaper Online & Bangla News

Media Link Submission Media Directory, Journalism Jobs, Social Media, CNN News, BBC Weather, BBC World News, CBS, Health Insurance, Insurance in USA, Life Insurance, USA News, Daily News, Fox, Bangladesh News, India News, Pakistan News, Latest News

সহিংসতার শিকার ৯৭ শতাংশ নারী ‘বিচার’ পান না

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার দুই-তৃতীয়াংশইপারিবারিক সহিসংসতা। আর সহিংসতার শিকার প্রায় ৯৭শতাংশ ভুক্তভোগীর অভিযোগ আদালতে শুনানীর পর্যায়েযায় না বা গেলেও বাতিল হয়ে যায়। মাত্র ৩ শতাংশভুক্তভোগী নিজেদের পক্ষে বিচার পান।

সোমবার বিকেলে ঢাকার দৃক গ্যালারিতে ‘‘বাংলাদেশেনারীর প্রতি সহিংসতার উপর দৃষ্টিপাত : প্রবণতা এবংসমাধান” বিষয়ক একটি গবেষণায় এমন তথ্য তুলে ধরেএকশনএইড বাংলাদেশ ও জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধফোরাম- জেএনএনপিএফ।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাসম্পর্কিত মামলাগুলোর প্রতি ৫টির মধ্যে ৪টি মামলাইআদালতে উত্থাপিত হতে ২ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।তারপর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

একশনএইড বাংলাদেশ এবং জেএনএনপিএফ ‘১৬ দিনব্যাপীনারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ উদ্যাপনের প্রেক্ষাপটে ২০টিজেলার ২৮০০টি ঘটনার তথ্য নিয়ে এই গবেষণা করে।অনুষ্ঠানের শুরুতেই গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন গবেষকআহমেদ ইব্রাহীম।

গবেষণা নিয়ে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টরফারাহ্ কবির বলেন, “ঘরে-বাইরে সব জায়গায় আমরানির্যাতন মেনে নিচ্ছি। আবার যেখানে গিয়ে নির্যাতনের সুরাহাবা বিচার পাওয়া উচিৎ তা পাওয়া যাচ্ছে না। যখনই আমরাকোন না কোন নির্যাতনকে মেনে নিচ্ছি আমরা সহিংসতাকেসমর্থন করছি। ফলে নারীদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়েযায়। আমরা মেনে নিচ্ছি যে নারী ও শিশুর উপর নির্যতানকরা যায়। যখনই আমরা সহ্য করছি তখনই আমরা প্রশ্রয়দিচ্ছি। তাই আমাদের সবার নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন আনতেহবে।”

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৭৫ শতাংশপ্রতিবেদনই ধর্ষণ বা গণধর্ষণ সম্পর্কিত। যেখানে প্রতিবেদনবলছে, বেশিরভাগই পারিবারিক সহিংসতার বিষয়। অর্থাৎ,গণমাধ্যম বাড়ির বাইরের সহিংসতা এবং যৌন সহিংসতাকেঅধিক হারে তুলে ধরে। এভাবে ‘নারীরা বাড়িতে নিরাপদ’- এইধারণাকে স্থায়ী করে রাখা হয়েছে। তবে গবেষণা বলছে, নারীরাঘরেই বেশি অনিরাপদ।

গবেষণার উপর মন্তব্য করতে গিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন “নারীদের ছোটবেলাথেকেই যেকোন সমস্যা লুকিয়ে রাখার শিক্ষা দেয়া হয়। যতদিনপর্যন্ত আমাদের বিচার ব্যবস্থা ন্যূনতম পর্যায়ের নিরপেক্ষ নাহবে ততদিন এই সমস্যার সমাধান হবে না। নারী-পুরুষউভয়কেই সচেতন করতে হবে। এখানে গণমাধ্যম প্রচার ওপ্রকাশনার মাধ্যমে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে”।

নারীদের উপর সহিংসতা ও বিচার না হওয়া বিষয়ে গবেষণায়কারণ হিসেবে বলা হয়, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগদাখিল সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকে না। একইসঙ্গে এলাকারক্ষমতাসীনদের বাধা এবং হস্তক্ষেপ, সুশাসনের অভাব, ঘরেনারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোন সচেতনামূলক কার্যক্রম নাথাকা এবং মামলা ধীরগতির কারণে ভুক্তভোগীরা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ নিয়ে যেতে চায় না।এছাড়া বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেইরায় যায় সুনির্দিষ্ট আইন না থাকার কারনে।

নারীনেত্রী ও নিজেরা করি-এর সমন্বয়ক খুশি কবির বলেন, “আমাদের সমাজে মনে করা হয় নির্যাতন একটি স্বাভাবিকঘটনা। আবার নির্যাতনের শিকার একজন নারী থানায় গিয়েওঅভিযোগ দিয়ে সহযোগিতা পান না, হয়রানি করা হয় তাকে।আইনী জটিলতায় বিচার পেতে অনেক সময় লাগে। একজননারী বা একটি পরিবারের পক্ষে টাকা খরচ বা সময় দিয়েপরিশেষে বিচার পাওয়া খুবই কঠিন। সেকারনে অধিকাংশমামলার বিচার আলোর মুখ দেখে না।”

গবেষণায় কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপরিশগুলো হলো,নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং গৃহে এর ব্যাপকতাকে নির্মূলকরার জন্য একটি আইন করা এবং তার বাস্তবায়ন করা; জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নারীরা যেন গৃহেসংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতা চিহ্নিত করতে পারে সেবিষয়ে তাদের সচেতনতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করা; নারীরা যাতেসহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ কিংবা অভিযোগকরতে পারে তার জন্য সকল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা নিশ্চিতকরবে সরকার; নারীরা যাতে সঠিক উপায়ে আইনগতঅভিযোগগুলো দাখিল করতে পারে সে বিষয়ে রাষ্ট্রের পক্ষথেকে তাদের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া; এবং গণমাধ্যমের উচিৎপারিবারিক সহিংসতার বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে নজরদেওয়া।

সহিংসতার নানা ঘটনা সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতাবাড়ানো ও বিভিন্ন পক্ষকে উদ্যোগী করতে একশনএইডবাংলাদেশ এবং উন্মাদ “ফেমিটুন” নামের একটি ভিন্নধর্মীকার্টুন প্রদর্শনীর আয়োজন করে। গবেষণা প্রতিবেদটি প্রকাশেরপর প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করে আয়োজকরা। নারীর প্রতিসহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের কার্টুনিস্টরাএই কার্টুনগুলো আঁকেন। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, যৌন ওপ্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ধর্ষণ, এসিডনিক্ষেপ, অবৈতনিক সেবামূলক কাজ, শহরে এবং দুর্যোগেনারীর প্রতি সহিংসতা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে সহিংসতারচিত্রগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ২৬ নভেম্বর শুরু হয়ে ২৮ নভেম্বরপর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। প্রতিদিন বিকাল তিনটা থেকে রাতআটটা পর্যন্ত যে কেউ ধানমন্ডীর দৃক গ্যালারীতে এই প্রদর্শনীদেখতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.